নামাজ সম্পর্কে ?

30 জুন 2016 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো:শাহনুর রহমান (1,048 পয়েন্ট)
নামাজের সময় হাত কোথায় বাধতে হয়। হাদিসের আলোকে বলবেন । চিত্র দিলে ভাল হয়।

2 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
30 জুন 2016 উত্তর প্রদান করেছেন মুক্তবিহঙ্গ লিমন (1,274 পয়েন্ট)
আজকের আলোচ্য বিষয় সহি হাদিসের আলোকে হাত কোথায় বাধতে হবেঃ ঈমাম আবু হানিফার মতে নাভির নিচে হাত বাধ আসুন্নাত।ইমাম শাফেয়ির মতে নাভীর উপরে বুকের নিচে হাত রাখা সুন্নাত এবং এটাই তার বিশুদ্বতম মত। ইমাম মালীকের মতে হাত না বেধে ছেড়ে দেয়া সুন্নাত। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মতে নাভীর উপরে বা নিচে যে কোন এক জায়গায় রাখলে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।।আলবানী মাজহাব অনুসারে হাত বাধতে হবে বুকের ঊপরে,উপমহাদেশে এরা আহলে হাদিস নামে পরিচিত আর আরবে মাদখালি নামে পরিচিত হাত বাধা সংক্রান্ত হাদিসগুলিঃ হাত কোথায় বাধতে হবে সুস্পষ্টভাবে কোন হাদিস বুখারী-মুসলিমে নেই। যা আছে ত হল কোন হাতের উপরে কোন হাত রাখতে হবে কতখানি রখতে হবে।আহলে হাদীছ গংএরা বুখারী শরিফের নামে মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে থাকে।চলুন হাদিসগুলি দেখে নেই তাহলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে। ﻦﻋ ﻲﺑﺍ ﻦﻋ ﻡﺯﺎﺣ ﻞﻬﺳ ﺪﻌﺳ ﻦﺑ ‏( ﺽﺭ ‏) ﻝﺎﻗ ﻥﺎﻛ ﻥﻭﺮﻣﻮﻳ ﺱﺎﻧ ﻥﺍ ﻊﻀﻳ ﻞﺟﺮﻟﺍ ﻲﻨﻤﻴﻟﺍ ﺪﻴﻟﺍ ﻲﻠﻋ ﻪﻋﺍﺭﺫ ﻱﺮﺴﻴﻟﺍ ﻲﻓ ﺓﻼﺼﻟﺍ ﻝﺎﻗ ﻡﺯﺎﺣ ﻮﺑﺍ ﻻ ﻻﺃ ﻪﻤﻠﻋﺃ ﻲﻤﻨﻳ ﻚﻟﺫ ﻲﻟﺍ ﻲﺒﻨﻟﺍ ﻲﻠﺻ ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻴﻠﻋ ﻢﻠﺳﻭ হ যরত সাহল ইবনে সাদ রা. বলেন, লোকদেরকে আদেশ করা হত, পুরুষ যেন নামাযে ডান হাত বাম বাহুর উপর রাখে।’-সহীহ বুখারী ১/১০৪ হযরত হুলব আতত্বয়ী রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন এবং তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। ﻥﺎﻛ ﻝﻮﺳﺭ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻴﻠﻋ ﻢﻠﺳﻭ ﺎﻨﻣﺆﻳ ﻪﻟﺎﻤﺷ ﺬﺧﺄﻴﻓ .ﻪﻨﻴﻤﻴﺑ ﻩﺍﻭﺭ ﻝﺎﻗﻭ ﻱﺬﻣﺮﺘﻟﺍ : ﺚﻳﺪﺣ ﻦﺴﺣ . -জামে তিরমিযী ১/৩৪; ইবনে মাজাহ ৫৯ উক্ত হাদিছে ডান হাত কে বাম যিরার উপর রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু হাত কোথায় রাখবে, নাভির উপরে না নাভীর নিচে, সে সম্পর্কে। উক্ত হাদিসে কিছু বলা হয়নি। এখন আমাদের বুঝা দরকার যে আরবী তে “যিরা” শব্দের অর্থ কি? কনুই থেকে মধ্যমা আঙুল পর্যন্ত অংশ কে আরবি তে যিরা বলা হয়।(মিছবাহুল লুগাত,মুজামুল ওয়াসিত,আল মুনযিদ)। সে হিসাবে উক্ত হাদিসটি কোনভাবেই হানাফি মাযহাবের বিরোধী নয়, কারণ আমরা নাভীর নিচে ডান হাত কে বাম হাতের কব্জির উপর রাখি এবং কবজি নিংসন্দেহে “যিরা” এর অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং কোন ভাবেই উক্ত হাদিস আমাদের বিরোধী নয় এবং আমরা উক্ত হাদীস মতি আমল করে থাকি। তবে যেহেতু উক্ত হাদিসে স্পষ্ট করে হাত কোথায় রাখা উচিত তা বলা হয়নি, সে জন্য আমাদের কে এ ব্যপারে সুস্পষ্ট হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম এর আমল দেখতে হবে। আহলে হাদিস গংরা এই হাদিসটি দিয়েই অপপ্রচার চালায় নামাজে বুকের উপর হাত রাখাকে সুন্নাত, অথচ দেখুন উক্ত হাদিসে উক্ত হাদিসে বুকের উপর হাত রাখা বিষয়ক কোন শব্দও নেই। সাহল বিন সাদ রাযি এর হাদীসের ব্যাপারে বুখারী শরীফের বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন – “বাহুর কোন জায়গায় রাখতেন সেটা এই হাদীসে অস্পষ্ট। আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণিত ওয়াইল রাযিঃ এর হাদীসে বলা হয়েছে- ‘অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।’ ইবনে খুজাইমা রহঃ প্রমুখ এটিকে সহিহ বলেছেন। সালাত অধ্যায়ের শেষে দিকে হযরত আলী রাযিঃ এর অনুরূপ আছার (হাদীস) এর উল্লেখ আসছে। (ফতহুল বারী২/২৭৫)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ এ বিষয়ে মূল মর্ম বর্ণনার ক্ষেত্রে বললেন – “সালাত অধ্যায়ের শেষে দিকে হযরত আলী রাযিঃ এর অনুরূপ আছার (হাদীস) এর উল্লেখ আসছে।” (ফতহুল বারী২/২৭৫) তাহলে এবার আমরা আলী রাযিঃ এর আমালটি বুখারি শরিফ থেকে দেখি- “আলী রাযিঃ (সালাতে) সাধারণত তার (ডান হাতের) পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন।” (বুখারী ১/১৫৯,ইফা ২/৩৩০) ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত বুখারী শরিফ
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
30 জুন 2016 উত্তর প্রদান করেছেন Abdul Halim (8,520 পয়েন্ট)

নামাযে হাত বাঁধাঃ

হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিয়ে দুই হাত তুললেন। রাবী বলেন, দুই কান বরাবর। এরপর পরিধানের চাদর গায়ে জড়িয়ে নিলেন, এরপর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন ...।

عن وائل بن حجر : أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه حين دخل في الصلاة كبر، وصف همام حيال أذينه، ثم التحف بثوبه، ثم وضع يده اليمنى على اليسرى ...

 

-সহীহ মুসলিম ১/১৭৩

হযরত হুলব আতত্বয়ী রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন এবং তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন।

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمنا فيأخذ شماله بيمينه. رواه الترمذي وقال : حديث حسن.

-জামে তিরমিযী ১/৩৪; ইবনে মাজাহ ৫৯

  হযরত সাহল ইবনে সাদ রা. বলেন, লোকদেরকে আদেশ করা হত, পুরুষ যেন নামাযে ডান হাত বাম বাহুর উপর রাখে।’-সহীহ বুখারী ১/১০৪

كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة. قال أبو حاتم : لا أعلمه إلا ينمى ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

হযরত জাবির রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নামাযরত ব্যক্তির নিকট দিয়ে গমন করছিলেন, যিনি ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে নামায পড়ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত খুলে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫০৯০

مر رسول الله صلى الله عليه وسلم برجل وهو يصلي قد وضع يده اليسرى على اليمنى فانتزعها ووضع اليمنى على اليسرى. قال الهيثمي في مجمع الزوائد ٢/٢۷٥ : رجاله رجال الصحيح.

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আমরা নবীগণ আদিষ্ট হয়েছি দ্রুত (সময় হওয়ামাত্র) ইফতার করতে, বিলম্বে (সময়ের শেষের দিকে) সাহরী খেতে এবং নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতে।’

سمعت نبي الله صلى الله عليه وسلم  يقول : إنا معاشر الأنبياء أمرنا بتعجيل فطرنا وتأخير سحورنا وأن نضع أيماننا على شمائلنا في الصلاة. قال الهيثمي  في مجمع الزوائد ١/ ٢۷٥: رجاله رجال الصحيح.

-সহীহ ইবনে হিববান ৩/১০১, হাদীস : ১৭৬৬; আলমুজামুল কাবীর ১১/১৫৯, হাদীস : ১১৪৮৫

হারিছ ইবনে গুতাইফ রা. বলেন, ‘আমি এটা ভুলিনি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতে দেখেছি, অর্থাৎ নামাযে।’

مهما رأيت نسيت لم أنس أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وضع يده اليمنى على اليسرى يعني : في الصلاة.

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৯৫৬; মুসনাদে আহমদ ৪/১০৫, হাদীস : ১৬৯৬৭-৬৮, ২২৪৯৭

মোটকথা, নামাযে হাত বেঁধে দাঁড়ানো সুন্নাহ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক সাহাবী তা বর্ণনা করেছেন। এ কারণে নামাযে হাত ছেড়ে দাঁড়ানো, যা মালেকী মাযহাবের কোনো কোনো ইমাম গ্রহণ করেছেন, মূল সুন্নাহ নয়।

মালেকী মাযহাবের প্রাচীন গ্রন্থ ‘‘আলমুদাওয়ানাতুল কুবরা’’য় আছে, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম রাহ. ইমাম মালিক রাহ. থেকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন যে, ‘ফরয নামাযে এই নিয়ম আমার জানা নেই এবং তিনি তা অপছন্দ করতেন। তবে নফল নামাযে কিয়াম যখন দীর্ঘ হয় তখন হাত বাঁধতে বাঁধা নেই।’

قال : وقال مالك في وضع اليمنى على اليسرى في الصلاة قال : لا أعرف ذلك في الفريضة وكان يكرهه، ولكن في النوافل إذا طال القيام فلا بأس بذلك يعين به نفسه.

 কিন্তু এ রেওয়ায়েত উল্লেখ করার পর সুহনূন (গ্রন্থকার) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব রাহ. সুফিয়ান ছাওরী রাহ.-এর সূত্রে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতে দেখেছেন।

قال سحنون عن ابن وهب عن سفيان الثوري عن غير واحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم رأوا رسول الله صلى الله عليه وسلم واضعا يده اليمنى على اليسرى في الصلاة.

-আলমুদাওয়ানাহ ১/৭৬

ইমাম মালেক রাহ.-এর অন্য অনেক শাগরিদ তাঁর থেকে হাত বাঁধার নিয়ম বর্ণনা করেছেন। মালেকী মাযহাবের বিখ্যাত মনীষীদের অনেকেই তাঁর এই রেওয়ায়েতকেই বিশুদ্ধ ও অগ্রগণ্য বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

ইমাম মালিক রাহ.-এর ‘আলমুয়াত্তা’য় এ নিয়মই বর্ণিত হয়েছে।

‘আততাজ ওয়াল ইকলীল লিমুখতাসারিল খালীল’ কিতাবে ইমাম মালেক রাহ. থেকে হাত বাঁধার নিয়ম বর্ণনা করার পর ইবনে রুশদ মালেকীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘এটিই অগ্রগণ্য ও শক্তিশালী। কারণ প্রথম যুগে মানুষকে এরই আদেশ করা হত।’

ابن رشد : وهذا هو الأظهر، لأن الناس كانوا يؤمرون به في الزمان الأول.

তদ্রূপ কাযী ইয়ায মালেকী রাহ. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আমাদের শায়খগণ ডান হাতের পাতা বাম হাতের কব্জির উপর মুঠ করার নিয়মই গ্রহণ করেছেন।’

عياض : اختار شيوخنا قبض كف اليمنى على رسغ اليسرى.

-আততাজ ওয়াল ইকলীল, আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আলমাওওয়াক আলমালেকী (৮৯৭ হি.) মাওয়াহিবুল জালীলের সাথে মুদ্রিত ২/২৪০


হাত কোথায় বাঁধা হবেঃ

তো এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে হাত বাঁধতেন এবং সাহাবায়ে কেরামও হাত বাঁধতেন। এখন প্রশ্ন হল, কোথায় তাঁরা হাত বাঁধতেন? মৌখিক বর্ণনায় হাত বাঁধার মূল প্রসঙ্গ যত পরিষ্কারভাবে এসেছে কোথায় বাঁধতেন তা সেভাবে আসেনি। কেন আসেনি? আসার প্রয়োজন হয়নি। কারণ সবাই হাত বাঁধছেন। কোথায় বাঁধছেন তা সবার সামনেই পরিষ্কার। কাজেই তা মুখে বর্ণনা করার প্রয়োজন হয়নি। তো যে সুন্নাহ কর্মে ও অনুসরণে ব্যাপকভাবে রয়েছে তা মৌখিক বর্ণনায় সেভাবে নেই। এ ধরনের ক্ষেত্রে পরের যুগের লোকদের জন্য সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল ও ফতোয়া সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁরা ঐ সময়ের কর্ম ও অনুশীলনের প্রত্যক্ষদর্শী।

নামাযে হাত বাঁধার সুন্নাহর উপর সাহাবা-তাবেয়ীন কীভাবে আমল করেছেন-এ বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রাহ. (২৭৯ হি.) বলেন-

والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم، يرون أن يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة، ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة، ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة، وكل ذلك واسع عندهم.

অর্থাৎ আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীন ও তাঁদের পরবর্তী মনীষীগণ এই হাদীসের উপর (ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরা) আমল করেছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত এই ছিল যে, নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতে হবে। তাঁদের কেউ নাভীর উপর হাত রাখার কথা বলতেন, আর কেউ নাভীর নিচে রাখাকে (অগ্রগণ্য) মনে করতেন। (তবে) দুটো নিয়মই তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল।-জামে তিরমিযী ১/৩৪

বস্ত্তত এটা হচ্ছে হাত বাঁধার হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা ও প্রায়োগিক পদ্ধতি। সাহাবা-তাবেয়ীনের যমানা থেকে এ দুটি নিয়মই চলে আসছে। পরবর্তীতে জুমহূর ফকীহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ এ দুই নিয়ম গ্রহণ করেছেন। এভাবে উম্মাহর তাওয়ারুছ ও ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে নামাযে হাত বাঁধার যে নিয়ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছেছে তা উল্লেখিত হাদীসসমূহেরই ব্যবহারিক রূপ। এ কারণে পরবর্তী যুগে বিচ্ছিন্ন কোনো নিয়ম আবিষ্কার করে তাকে হাদীস শরীফের উপর আরোপ করা হাদীসের তাহরীফ ও অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

নাভীর নিচে হাত বাঁধাঃ

উপরোক্ত দুই নিয়মের মাঝে নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়মটি রেওয়ায়েতের বিচারে অগ্রগণ্য। ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. (২৩৮ হি.) বলেছেন, ‘নাভীর নিচে হাত বাঁধা রেওয়ায়েতের বিচারে অধিক শক্তিশালী এবং ভক্তি ও বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’

تحت السرة أقوى في الحديث تحت السرة أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع

 তাবেয়ী আবু মিজলায লাহিক ইবনে হুমাইদ রাহ. (মৃত্যু : ১০০ হি.-এর পর) নামাযে কোথায় হাত বাঁধবে-এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৯৬৩

এই রেওয়ায়েতের সনদ সহীহ।

সনদসহ রেওয়ায়েতটির পূর্ণ আরবী পাঠ এই -

حدثنا يزيد بن هارون قال : أخبرنا الحجاج بن حسان قال : سمعت أبا مجلز ـ أو سألته ـ قال : قلت كيف أصنع؟ قال : يضع باطن كف يمنيه على ظاهر كف شماله ويجعلها أسفل من السرة.

বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.ও (মৃত্যু : ৯৬ হি.) এই ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৯৬০

এই রেওয়ায়েতের সনদ হাসান। সনদসহ রেওয়ায়েতটির পূর্ণ আরবী পাঠ এই-

حدثنا وكيع، عن ربيع، عن أبي معشر، عن إبراهيم قال : يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة.

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশশাইবানী রাহ.হক (১৮৯ হি.) বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. নাভীর নিচে হাত বাঁধতেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা এই নিয়মই অনুসরণ করি এবং এটিই (ইমাম) আবু হানীফার সিদ্ধান্ত।’-কিতাবুল আছার, হাদীস : ১২১

সনদসহ রেওয়ায়েতটির আরবী পাঠ এই-

قال محمد : أخبرنا الربيع بن صبيح، عن أبي معشر، عن إبراهيم : أنه كان يضع يده اليمنى على يده اليسرى تحت السرة. قال محمد : وبه نأخذ وهو قول أبي حنيفة رحمه الله. (كتاب الصلاة، باب الصلاة قاعدا والتعمد على شيء أو يصلي إلى سترة)

প্রসঙ্গত আগেই বলা হয়েছে যে, সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল হচ্ছে হাত বাঁধা সংক্রান্ত মারফূ হাদীসসমূহের ব্যবহারিক রূপ। এ কারণে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহ. ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ-এর সূত্রে হাত বাঁধার মরফূ হাদীস বর্ণনা করার পর এই নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।

রেওয়ায়েতটি এই-

أخبرنا أبو حنيفة، عن حماد عن إبراهيم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعتمد بإحدى يديه على الأخرى في الصلاة، يتواضع لله تعالى. قال محمد : ويضع بطن كفه الأيمن على رسغه الأيسر، تحت السرة، فيكون الرسغ في وسط الكف، (كتاب الأثار، كتاب الصلاة، باب الصلاة قاعدا والتعمد على شيء أو يصلي إلى سترة)

ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে এক হাতের উপর অন্য হাত বাঁধতেন। এভাবে তিনি আল্লাহর সামনে বিনীত হতেন।’

(ইমাম) মুহাম্মাদ বলেন, ‘ডান হাতের তালু বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে, নাভীর নিচে; সুতরাং কব্জি থাকবে হাতের তালুর মাঝে।’-কিতাবুল আছার, হাদীস : ১২০

খাইরুল কুরূন ও পরবর্তী যুগের হাদীস ও ফিকহের বিখ্যাত ইমামগণও নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম গ্রহণ করেছেন।

ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. (৬২০ হি.) বলেন, নামাযে কোথায় হাত বাঁধা হবে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা আছে। (ইমাম) আহমদ রাহ. থেকে বর্ণিত, দুই হাত নাভীর নিচে রাখবে। এটি (হযরত) আলী রা., আবু হুরায়রা রা., আবু মিজলায রাহ., ইবরাহীম নাখায়ী রাহ., (সুফিয়ান) ছাওরী রাহ., ইসহাক (ইবনে রাহুয়াহ) রাহ. থেকে বর্ণিত।-আলমুগনী ২/১৪১।

সোর্সঃ মাসিক আলকাউসার।


আমার সকল কাজ,চিন্তা-ভাবনা পড়ালেখা কেন্দ্রিক। পড়ালেখা আর ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। কিন্তু সাধ্য এবং বাস্তবতার সমন্বয় করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিটি স্বপ্নই বাস্তবতার স্বংস্পর্শে এসে হারিয়ে গেছে। এখন স্বপ্ন কেবল একটাই, বিসিএস ক্যাডার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। ছোট্ট একটি শখও আছে,বিভিন্ন দেশের কয়েন কালেকশন করা। সবার দোয়া এবং সাহায্য কামনা করছি।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
16 অক্টোবর 2016 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন aklldlol (0 পয়েন্ট)
1 উত্তর
01 এপ্রিল 2016 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Kobir4050 (21 পয়েন্ট)

175,581 টি প্রশ্ন

227,261 টি উত্তর

48,977 টি মন্তব্য

76,041 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...