কেউ কি দলিল দিতে পারবেন?

202 জন দেখেছেন
20 নভেম্বর 2016 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
20 নভেম্বর 2016 bumped করেছেন smar boy

কেউ কি দলিল ও ব্যাখ্যা দিতে পারবেন যে আল্লাহর কালাম লেখে তাবিজ দিয়ে জিন কিংবা অন্য অজানা রোগের জন্য চিকিৎসা শিরক? 

3 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
20 নভেম্বর 2016 উত্তর প্রদান করেছেন ফারাবি (2,944 পয়েন্ট)
তাবিজ ব্যবহার করা শিরক। এর কয়েকটি হাদিস তুলে দিলাম --------- ০১. সাহাবি ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ। {অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।} তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাকেম ও ইবনে মাজাহ) হাদিসটি সহিহ। ০২. উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম। ০৩. উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম। ০৪. একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন : তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।’ (ইউসুফ : ১০৬) তাফসিরে ইবনে কাসির। এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাহাবি হুজায়ফার মতে তাগা ব্যবহার করা শিরক। ০৫. বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, আবু বশির আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলেন। সে সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এ নিদের্শ দিয়ে পাঠালেন, ‘কোনও উটের গলায় ধনুকের ছিলা অথবা বেল্ট রাখবে না, সব কেটে ফেলবে।’ ০৬.আবু ওয়াহহাব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দাও এবং লাগাম পরিয়ে দাও। তবে ধনুকের ছিলা ঝুলিয়ো না। সুনানে নাসায়ী। ০৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহর স্ত্রী জয়নব রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। আহমদ, হাকেম, ইবনে মাজাহ। ০৮. তাবেয়ি আব্দুল্লাহ বিন উকাইম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন কিছু ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছেই সোপর্দ করা হবে।’ আহমদ, তিরমিজি। এ সব দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাবিজ ব্যবহার করা হারাম ও শিরক। কুরআন-হাদিসের তাবিজ :----- যে সব তাবিজ-কবচে কুরআন হাদিস ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এক শ্রেণীর আলেম কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দুআ সমূহের তাবিজ ব্যবহার করা বৈধ মনে করেন। যেমন, সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা আবু জাফর আল-বাকের, ইমাম মালেক। এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ, ইবনে আব্দুল বার, বাইহাকি, কুরতুবি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়িম এবং ইবনে হাজারও রয়েছেন। তাদের দলিল, আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।’ {ইসরা:৮২} এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। {সাদ:২৯} সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমরের ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি নিজ ছোট বাচ্চা, যারা দোয়া মুখস্থ করতে অক্ষম, তাদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য গায়ে দোয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে দিতেন। দোয়াটি এই: ‘আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ) হাদিসটি হাসান। পক্ষান্তরে অধিকাংশ সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে কুরআন ও হাদিসের তাবিজ ব্যবহার করাও নাজায়েজ। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, উকবা বিন আমের, ইবনে উকাইম, ইব্রাহিম নখয়ি, একটি বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদ, ইবনুল আরাবি, শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি, হাফেজ আল-হেকমি এবং মুহাম্মদ হামিদ আলফাকি। আর সমসাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন শায়খ আলবানি ও শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ। তারা বলেন, উল্লেখিত আয়াত দ্বারা তাবিজের বৈধতা প্রমাণিত হয় না। উপরন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের দ্বারা চিকিৎসা করার স্বরূপ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, আর তা হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ ছাড়া কুরআনের আয়াত তাবিজ আকারে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন প্রমাণ নেই, এমনকি সাহাবাদের থেকেও। তা ছাড়া ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমেরের বর্ণিত হাদিসের সূত্র (সনদ) হাদিস বিশারদদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। আর শুদ্ধ হলেও এটা তার একার আমল, যা অসংখ্য সাহাবির বিপরীত হওয়ার ফলে এবং এর স্বপক্ষে কোন দলিল না থাকার কারণে আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আরেকটি কারণ, যেসব দলিলের মাধ্যমে তাবিজ নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, সেসব দলিলে পৃথক করে কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ বলা হয়নি। যদি বৈধ হত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা বলে দিতেন। যেমন তিনি শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুকের ব্যাপারটি অনুমতি দিয়েছেন। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ওটা শিরকের আওতাধীন না হলে তাতে কোন বাধা নেই।’ মুসলিম। পক্ষান্তরে তিনি তাবিজ সম্পর্কে এরূপ কিছু বলেননি। দ্বিতীয়ত. সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্র ইব্রাহিম নখয়ি বলেন, তারা অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সঙ্গী-সাথী ও শিষ্যগণ কুরআন বা কুরআনের বাইরের সব ধরণের তাবিজ অপছন্দ করতেন। যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, হারেস বিন সোয়ায়েদ, ওবায়দা সালমানি, মাসরুক, রাবি বিন খায়সাম এবং সোয়ায়েদ বিন গাফলাহ প্রমুখ তাবেয়িগণ। (ফতহুল মজিদ) তৃতীয়ত. অবৈধ পন্থার পথ রুদ্ধ করার জন্য শরিয়ত অনেক বৈধ কাজও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সে হিসেবে নিষিদ্ধ তাবিজ থেকে উম্মতকে হিফাজত করার লক্ষ্যে বৈধ তাবিজও নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ এ পথ খোলা রাখলে বাতিল তাবিজপন্থীরা সাধারণ মানুষের মন আল্লাহর ওপর ভরসা থেকে বিমুখ করে, তাদের লিখিত তাবিজের প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলার সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, ঐ সব শয়তানদের প্ররোচনার কারণে কতক সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। আর তারা মানুষের আসক্তি দেখে তাদের সহায়-সম্পদ লুটে নেয়ার ফন্দি আটে। যেমন, তাদেরকে বলে, তোমাদের পরিবারে, ধন সম্পত্তিতে বা তোমার ওপর এরূপ বিপদ আসবে। অথবা বলে, তোমার পিছনে জিন লেগে আছে ইত্যাদি। এভাবে এমন কতগুলো শয়তানি কথা-বার্তা তুলে ধরে যা শুনে সে মনে করে, এ লোক ঠিকই বলছে। সে যথেষ্ট দয়াবান বলেই আমার উপকার করতে চায়। এভাবেই সরলমনা মূর্খ লোকেরা তাদের কথায় বিশ্বাস করে ও অতঃপর ভয়ে অস্থির হয়ে যায়, আর তার কাছে সমাধান তলব করে। তাই তাবিজ কুরআন-হাদিসের হলেও ব্যবহার করা, রুগির বালিশের নীচে রাখা বা দেয়ালে ঝোলানো নাজায়েজ বলাই অধিকতর শ্রেয়।
20 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)
20 নভেম্বর 2016 সম্পাদিত করেছেন নাইম সিকদার

উপরের একটিও আল্লাহর কালাম ব্যবহার নিষিদ্ধ সহিহ দলিল নয় তাই ফিক্কাহ কিতাব অনূসরণ শ্রেয়। বিখ্যাত ফাতাওয়া কিতাবগুলোতে তাবিজের ব্যবহার জায়েজ রয়েছে কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয় এটা সবাইকে মানতে হবে। তাই উত্তর মুছে ফেলুন।

20 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)

ইসলামে কয়েক প্রকার তাবিজ জায়েজনয়।যথা-১/কুরআন হাদীস দ্বারা ঝাড়ফুকদেয়া ছাড়া শুধু তামা, পিতলবা লোহা দ্বারা তাবিজবানিয়ে লটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ শুধুএগুলো লটকানো দ্বারাই রোগমুক্তহওয়া যাবে বিশ্বাসকরে তা লটকানো নাজায়িজ।২/ এমন তাবিজ যাতে আল্লাহর নাম,কুরআনের আয়াত, দুআয়ে মাসূরা ব্যতিতশিরকী কথা লিপিবদ্ধ থাকে।৩/তাবীজকে মুয়াসসার বিজজাততথা তাবীজ নিজেই আরোগ্য করারক্ষমতার অধিকারী মনে করে তাবিজলটকানো। এ বিশ্বাসজাহেলী যুগে ছিল, বর্তমানেও ইসলামসম্পর্কে কিছু অজ্ঞব্যক্তিরা তা মনে করে থাকে।৪/যে কালামের অর্থ জানা যায়না এমন শব্দ দ্বারা তাবিজ লেখা।৫/আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায়তাবিজ লেখা।এ সকল সুরতে সর্বসম্মতমতানুসারে নাজায়িজ ও হারামএবং শিরক। এতে কোন সন্দেহ নেই।কিন্তু তাবিজে কুরআনের আয়াত,আল্লাহর নাম,দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধকথাকলে তা অবশ্যই জায়িজ।একে নাজায়িজ ও শিরকবলা মুর্খতা বৈ কিছু নয়। কেননা এসবতাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসারবিজজাত তথা আরোগ্যেরক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেইমনে করা হয়। যেমন ডাক্তার প্রদত্তঔষদের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাতআল্লাহকে মনে করারকারণে তা নাজায়িজ নয়।যদি মুয়াসসার বিজজাত ঐঔষধকে মনে করলে ঔষধ সেবনও শিরক ওহারাম হবে।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দলিলﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺷُﻌَﻴْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﺰَﻉِ ﻛَﻠِﻤَﺎﺕٍ « ﺃَﻋُﻮﺫُﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِ » . ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻋَﻤْﺮٍﻭﻳُﻌَﻠِّﻤُﻬُﻦَّ ﻣَﻦْ ﻋَﻘَﻞَ ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﻴﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻘِﻞْ ﻛَﺘَﺒَﻪُ ﻓَﺄَﻋْﻠَﻘَﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِআমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ওতিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেনযে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদেরকেউ যখন ঘুম অবস্থায়ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেনﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِদো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদেরতা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদেরগলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখকরা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আমরবিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্যতাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।যারা বলেন যে, সকল তাবিজই শিরক,তাহলে আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আসরাঃ কি শিরক করেছেন?নাউজুবিল্লাহ!যে সব হাদীসে তাবীজকে হারামশিরক বলা হয়েছে এর জবাব কি?হাদীস দেখেই ফাতওয়া দেয়া যায়না। হাদীসসম্পর্কে প্রাজ্ঞতা থাকতে হয়। তাবীজকবচ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিতহাদীসে সেসব তাবীজকে নিষিদ্ধকরা হয়েছে যেসব তাবীজেরকথা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।উল্লেখিত ৫ ধরণের নিষিদ্ধতাতো আমরা আগেই উল্লেখ করেছি।নিষিদ্ধতার হাদীসে কেবল সেসবইউদ্দেশ্য। এ কারণেই আব্দুল্লাহ বিন আমরবিন আস রাঃ তার সন্তানদের তাবিজদিতেন। যাতে উল্লেখিত শর্তেরকোনটি বিদ্যমান নয়।দেখুন বিজ্ঞ ওলামা ওফক্বীহরা কী বলেন?আল্লামা ইবনে হাজারআসকালানী রহঃ বুখারী শরীফেরব্যাখ্যগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে লিখেন-ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﺟﻤﻊ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻭﻫﻲ ﺧﺮﺯ ﺃﻭ ﻗﻼﺩﺓ ﺗﻌﻠﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﺃﺱﻛﺎﻧﻮﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻳﺪﻓﻊ ﺍﻵﻓﺎﺕ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔﺑﻜﺴﺮ ﺍﻟﻤﺜﻨﺎﺓ ﻭﻓﺘﺢ ﺍﻟﻮﺍﻭ ﻭﺍﻟﻼﻡ ﻣﺨﻔﻔﺎ ﺷﻲﺀ ﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓﺗﺠﻠﺐ ﺑﻪ ﻣﺤﺒﺔ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻭﻫﻮ ﺿﺮﺏ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﺤﺮ ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻷﻧﻬﻢ ﺃﺭﺍﺩﻭﺍ ﺩﻓﻊ ﺍﻟﻤﻀﺎﺭ ﻭﺟﻠﺐ ﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻊ ﻣﻦﻋﻨﺪ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺑﺄﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪﻭﻛﻼﻣﻪতামায়েম শব্দটি তামীমা শব্দেরবহুবচন। যা পুঁতি বা মালা সাদৃশ্য।মাথায় লটকানো হয়।জাহেলী যুগে বিশ্বাস করা হতো যে,এর দ্বারা বিপদমুক্ত হওয়া যায়,মহিলারা এসব ব্যবহার করতো স্বামীরমোহাব্বত অর্জন করতে। এটি জাদুরইএকটি প্রকার। এটি শিরকের অন্তুর্ভূক্ত।কেননা এর দ্বারা আল্লাহছাড়া অন্যের থেকে বিপদমুক্ত হওয়া ওউপকার অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।কিন্তু এ শিরকের অন্তুর্ভূক্তহবে না যেসব তাবীজ কবচে আল্লাহরনাম বা কালাম থাকে। {ফাতহুলবারী-১/১৬৬, ঝারফুক অধ্যায়}মোল্লা আলী কারী রহঃ বলেন-ﺇﺫﺍ ﻛﺘﺐ ﻟﻪ ﺍﻟﻨﺸﺮﺓ ﻭﻫﻲ ﻛﺎﻟﺘﻌﻮﻳﺬ ﻭﺍﻟﺮﻗﻴﺔ ﻭﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻀﻤﻴﺮﺍﻟﺒﺎﺭﺯ ﻓﻲ ﻗﻮﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺃﻱ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻫﻮ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﻨﻮﻉﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻌﺎﻟﺠﻮﻥ ﺑﻪ ﻭﻳﻌﺘﻘﺪﻭﻥ ﻓﻴﻪ ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺍﻟﻘﺮﺁﻧﻴﺔ ﻭﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﻭﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻴﺔﻭﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﺍﻟﻤﺄﺛﻮﺭﺓ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﻞ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥﺗﻌﻮﻳﺬﺍ ﺃﻭ ﺭﻗﻴﺔ ﺃﻭ ﻧﺸﺮﺓ ﻭﺃﻣﺎ ﻋﻠﻰ ﻟﻐﺔ ﺍﻟﻌﺒﺮﺍﻧﻴﺔ ﻭﻧﺤﻮﻫﺎﻓﻴﻤﺘﻨﻊ ﻻﺣﺘﻤﺎﻝ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻓﻴﻬﺎযদি তাবীজের মত কাগজ লিখা হয়।রাসূল সাঃ এরবানী “এটি শয়তানী কর্ম” এরদ্বারা উদ্দেশ্য হলজাহেলী যুগে যদ্বারা চিকিৎসা করা হতো ওযার উপর নির্ভর করা হতো। আরযা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম,আল্লাহর সিফাত সম্বলিত,দুআয়ে মাসুরা হয়, তাহলে কোনসমস্যা নেই। বরং এটি মুস্তাহাব। চাইসেটি তাবীজ হোক, বা ঝারফুক হোকবা কাগজে লিখা হোক। আর যেসবইবরানী ও অন্যান্য ভাষায় লিখা হয়তা নিষিদ্ধ। কারণ তাতে শিরকেরসম্ভাবনা আছে। {মিরকাতুলমাফাতীহ-৮/৩২১}আল্লামা ইবনে আবেদীনশামী রহঃ উল্লেখ করেন-ﺇﻧﻤﺎ ﺗﻜﺮﻩ ﺍﻟﻌﻮﺫﺓ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﺑﻐﻴﺮ ﻟﺴﺎﻥ ﺍﻟﻌﺮﺏ ، ﻭﻻ ﻳﺪﺭﻯ ﻣﺎﻫﻮ ﻭﻟﻌﻠﻪ ﻳﺪﺧﻠﻪ ﺳﺤﺮ ﺃﻭ ﻛﻔﺮ ﺃﻭ ﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ، ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻥﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺃﻭ ﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻋﻮﺍﺕ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﻪনিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হলযা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়,বুঝা যায় না তাতে কি আছে?অথবা যাতে জাদু,কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসবতাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয়তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই।{ফাতওয়ায়ে শামী-৬/৩৬৩}কথিত আহলে হাদীস ভাইদেরকাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মতামতকথিত আহলে হাদীসনামধারী ভাইদের কাছেও গ্রহণযোগ্যব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলামইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন-ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻟﻠﻤﺼﺎﺏ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺮﺿﻰ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺫﻛﺮﻩ ﺑﺎﻟﻤﺪﺍﺩ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﻭﻳﻐﺴﻞ ﻭﻳﺴﻘﻰ ﻛﻤﺎ ﻧﺺﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﻏﻴﺮﻩবিপদগ্রস্ত বা অসুস্থ লোকদের জন্যকারি দ্বারা আল্লাহর কিতাব,আল্লাহর জিকরলিখে দেয়া এবং ধুয়ে পানকরা জয়েজ।তারপর এ আলোচনারশেষদিকে তিনি তাবিজাত বৈধহওয়ার পক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)এর একটি আছার পেশ করেন।ইবনে আব্বাস (রাঃ) কাগজের টুকরায়তাবিজলিখে দিতেন,তা সন্তানসম্ভবা নারীদেরবাহুতে বেঁধে দেয়া হত।{ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১৯/৬৪}আল্লামা শাওকানী রহঃ নাইলুলআওতারে ঝারফুক ও তাবীজেরঅধ্যায়ে স্পষ্ট ভাষায় উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষের তাবীজকে জায়েজবলেছেন।সকল প্রকার তাবীজ নাজায়িজহলে ঝাড়ফুঁকও না জায়েজ হয়কথিত আহলে হাদীসভাইয়েরা তাবীজকবচকে আমভাবে না জায়িজ বলার জন্যযেসব হাদীস দলিল হিসেবে উপস্থাপনকরে থাকে সেসব হাদীসেরমাঝে একটি হাদীস হল-ﺇﻥ ﺍﻟﺮﻗﻰ ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔ ﺷﺮﻙঅবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও জাদু শিরক।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৮৬}এ হাদীসে ঝাড়ফুঁককেও শিরকবলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।তাহলে কি সকল প্রকার ঝাড়ফুঁক শিরক ওহারাম? আমাদের কথিত আহলে হাদীসভাইয়েরাও তা স্বীকার করেন যে,কুরআন ও দুআয়ে মাসুরা দ্বারা ঝাড়ফুঁকজায়েজ। এছাড়া হলে নাজায়িজ।তাহলে এ হাদীস দিয়ে তাবীজনিষিদ্ধের দলিল দেয়া কি ঠিক হবে?ঝাড়ফুঁক জায়েজের যেমনব্যখ্যা দেয়া হয় যে, এখানে সর্বপ্রকারঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য নয়,তেমনি আমরা বলে তাবীজনিষিদ্ধতার হাদীসে সব ধরণেরতাবীজ নিষিদ্ধের কথা উদ্দেশ্য নয়।যেমনটি বিজ্ঞ আলেমগণের মতমতউল্লেখ পূর্বক ইতোপূর্বে উল্লেখকরা হয়েছে।একটি হাস্যকর দলিলের জবাবআমাদের কথিত আহলে হাদীসভাইয়েরা সকল প্রকার তাবীজ হারামসাব্যস্ত করার জন্য কিছু হাস্যকরদলিলের অবতারণা করে থাকেন। তারমাঝে একটি তারা কুরআন ও হাদীসেরসেসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপনকরে থাকেন, যাতে তাওয়াক্কুলতথা ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপরকরতে বলা হয়েছে। সেই সাথে সব কিছুকরার ক্ষমতা আল্লাহর উপরই ন্যস্তমর্মে বক্তব্য এসেছে।এসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপনকরে তারা বলতে চান যে, তাবীজেরউপর ভরসা করা মানে আল্লাহরসাথে শিরক করা তাই তা হারাম।কিন্তু আমাদের কথিত আহলে হাদীসভাইয়েরা ভরসা করা ও ওসীলা গ্রহণেরঅর্থ না জানার কারণে এমনবিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন মূলত।আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুরভরসা করে মুক্তি বা আরোগ্যকামনা শিরক এর মাঝে কোন দ্বিমতনেই। কিন্তু মূল ভরসা আল্লাহর উপররেখে ওসীলা গ্রহণ করা জায়েজএটা সর্বজন স্বীকৃত কথা। যদি বলা হয়যে, ওসীলা গ্রহণ জায়েজ নয়।তাহলে অসুখ হলে অষুধখাওয়া কি করে জায়েজ হয়?এ্ক্ষেত্রেতো একই বিষয়আসছে যেমনটি তাবীজেরক্ষেত্রে বলা হচ্ছে।এখানে যদি বলেন যে, ভরসা আল্লাহরউপর, আর বড়ি বা চিকিৎসা কেবলওসীলা মাত্র, তাই তা নাজায়েজ নয়।তাহলে তাবীজের ক্ষেত্রে কেন এঅহেতুক প্রশ্ন তোলা?সুতরাং বুঝা গেল যে,ডাক্তারী বড়িকে আরোগ্যের মূলকারণ সাব্যস্ত না করে আল্লাহর উপরভরসা করে ওসীলা হিসেবে যেমনতা ব্যবহার করা বৈধ,তেমনি প্রথমে উল্লেখিতশর্তসাপেক্ষে তাবীজ কবচও জায়েজ।না জায়েজের কোন কারণ নেই।

20 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)
20 নভেম্বর 2016 পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন নাইম সিকদার

যদি সন্দেহ থাকে তাহলে ফিক্কাহ কিতাব খুলে দেখুন বিখ্যাত ফিকাহ কিতাব ফাতাহুল বারী সহ অসংখ্য কিতাবে আল্লাহর কালাম সাথে ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে এবং আপনার দেওয়া আয়াতের ব্যাখ্যা দেওয়া রয়েছে এবং আপনার দেওয়া ব্যাখ্যার ভূল সংশোধন করা আছে।

20 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন ফারাবি (2,944 পয়েন্ট)
আপনি সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেন। ফিক্কাহ কোন দলিল নয়। এটা ইজমা - কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত।
20 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন smar boy (39 পয়েন্ট)
সব তাবিজই শিরক নয়।কুরআন মাজিদের ভিবিন্ন সূরার নক্সা ব্যাবহার করলে শিরক হবে না।তবে কেহ যদি এটা মনে করে তাবিজই তার কল্যান বয়ে আনবে, তাহলে সেটা শিরককের অন্তর্ভুক্ত।
21 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)

ইজমা কিয়াস কি ইসলামের দলিল নয় তার মানে আপনি মানেন না? তাহলে আপনার ইসলাম বিষয়ে উত্তর দেবার প্রয়োজন নেই।

21 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)

রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদেরকেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন

ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ

ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِদো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদেরতা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদেরগলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।

{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫} এটি সহিহ

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
20 নভেম্বর 2016 উত্তর প্রদান করেছেন আব্দুল হাকিম (576 পয়েন্ট)
বইঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/ চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৪৩ ১৭. গলায় তাবিজ ব্যবহার সম্পর্কে। ৩৮৪৩. মুহাম্মাদ ইবন আলা (রহঃ) - - - আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লহ (সঃ) কে বলতে শুনেছিঃ মন্ত্র, তাবিজ ও তাওলা১ করা শিরক। একথা শুনে যয়নব (রাঃ) বলেনঃ তুমি এ কি বলছ, আল্লাহর শপথ ! আমার চোখে ব্যথা হলে আমি একজন ইয়াহূদীর কাছে যেতাম, যে মন্ত্র পাঠের পর আমার চোখে ফু দিলে ব্যথার উপশম হতো। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ এতো শয়তানের অপকর্ম ছিল, যে তার হাত দিয়ে চোখে ব্যথা দিত। আর যখন ঐ ইয়াহূদী তাতে ফু দিত, তখন সে বিরত থাকতো। তোমার জন্য তা-ই পাঠ করা উচিত ছিল, যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পাঠ করতেন। আর তা হলোঃ হে মানব জাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া নিরাময়ই যথার্থ নিরাময়, যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না। ১। তাওলা এক প্রকার যাদু, যা দিয়ে বেগানা স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে অবৈধ প্রেম সৃষ্টি করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি হারাম কাজ। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) http://www.hadithbd.com/share.php?hid=35950
21 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)

ইসলামে আল্লাহর কালাম ব্যবহার জায়েজ শুধু মাত্র শেফা দান করার উদ্দেশ্যে
। রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদেরকেউ যখন ঘুম অবস্থায়ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেনﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِদো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদেরতা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদেরগলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}

আরো আছে ফিকাহ কিতাবে যেমনঃ ফাতাহুল বারী, ফাতাওয়ে শামী সহ অসংখ্য কিতাবে। 

আপনি যে বললেন দোয়ার কথা এখন যদি কারো জিন ধরে তাকে কিভাবে ঠিক করবেন তাকে তো ফুক দিলে ভাল হবে আবার যদি তার শরীরে জিন আক্রমণ করে? তখন তাবিজ ছাড়া কাজ হবেনা। তাই এ ব্যাপারে ফিক্কাহ কিতাব পরুন ও হাদিসের ব্যাখ্যা গুলো পরুন।


21 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন ফারাবি (2,944 পয়েন্ট)
ব্যাপারটা প্রশাসক এর উপর ছেড়ে দিলাম। এডমিন প্যানেল যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই হবে। অযথা তর্ক করে লাভ নেই।
21 নভেম্বর 2016 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন নাইম সিকদার (2,126 পয়েন্ট)
কেন ভাই ইজমা-কিয়াসের বিরুদ্ধে দলিল নেই?
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
22 জানুয়ারি উত্তর প্রদান করেছেন হাফিজ রাহমান (1,216 পয়েন্ট)

বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা যত ধরনের রোগ-ব্যধি দিয়েছেন তা নিরাময়ের জন্য ব্যবস্থাপত্রও দিয়েছেন। জাবের রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সবধরনের ব্যধিরই প্রতিষেধক রয়েছে। যদি কেউ ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পথ্য গ্রহণ করে তবে আল্লাহর নির্দেশক্রমে সে আরোগ্য লাভ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৮৭১। তবে কিছু ব্যবস্থা আছে প্রত্যক্ষ; যথা, মধু, কালো জিরা, গাছ-গাছড়া প্রভৃতি এবং এ থেকে প্রস্তুতকৃত ঔষধ। আবার কিছু ব্যবস্থা আছে পরোক্ষ; যথা হাদীসে বর্ণিত রোগ-ব্যধি ও বিপদাপদ থেকে মুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন দুআ-দুরূদ। রোগ-ব্যধি ও বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা লাভের উদ্দেশে এসব উপায় গ্রহণ তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর উপর আস্থার পরিপন্থী নয়; বরং হাদীসের ভাষ্যমতে এসব উপায় গ্রহণই নববী কর্মপন্থা হিসেবে পরিগণিত। পক্ষান্তরে শর্ত সাপেক্ষে  যদিও তাবীজ-কবচ গ্রহণের ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করা হয় তবে এ মাধ্যমটি গ্রহণ করা উচিৎ নয়। কারণ :
১। এতে শিরকের মত মরণঘাতি ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
২। যে হাদীসটির উদ্ধৃতিকে তাবীজ-কবচের বৈধতার ব্যাপারে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় তাতে ছোট ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এসব উপায় গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আর বড়দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দু‘আটি পাঠের কথা বলা হয়েছে।
৩। অধিকাংশ তাবিজের ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত ও দুআ-দুুরূদের মধ্যকার বর্ণমালার মানসংখ্যা লেখা হয় যা শরীয়তসম্মত নয়।
৪। তাবিজের মধ্যকার কুরআনের আয়াত ও দুআ-দুরূদের যথাযথ মান রক্ষা করা সম্ভব হয় না। 
৫। বর্তমান সমাজে তাবিজ-কবচের প্রতি মানুষের দুর্বলতা এতটা প্রবল যে, তারা বিপদাপদ ও রোগ-ব্যধি নিরাময়ের ক্ষেত্রে এ মাধ্যমকেই একমাত্র
প্রভাবক হিসেবে গণ্য করে থাকে।
৬। প্রচলিতি তাবিজ-কবচে খাজা বাবা, পীর বাবাসহ নানা রকম শরীয়ত গর্হিত শিরক-বিদাতের কথা লিখিত থাকে।

শিরক-বিদাতের এ ছিদ্রপথকে রুদ্ধ করার জন্যও তাবিজ-কবজের এ মাধ্যমকে পরিহার করা উচিৎ।তাইতো মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রাহ. বলেন, তাবীজ-কবচ করা জায়েজ হলেও তা না করাই উত্তম। ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৮৮। অন্যত্র তিনি বলেন, তাবীজ-কবচের কারণে যদি জনসাধারণের আকীদা-বিশ্বাসে ত্রুটি আসে তবে তাদের উপর এ উপায় গ্রহণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তবে তাবীজ-কবচকে পরিহার করা সর্বাবস্থায় শ্রেয়। সুন্নাহসম্মত পন্থা এতটুকুই যে, দু‘আ ও আয়াত পাঠ করে আক্রান্ত ব্যক্তির উপর শুধু দম করা হবে। ইমদাদুল আহকাম ১/৩৩০। অতএব রোগ-ব্যধি ও বিপদাপদের ক্ষেত্রে এ তাবীজ-কবচের পন্থা গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত মাসনূন দু‘আ পাঠ করা ও প্রত্যক্ষ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়। এটাই নিরাপদ ও সহীহ পদ্ধতি। সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২০০, ফাতহুল বারী ১০/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৮৮, ইমদাদুল আহকাম ১/৩৩০, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ২০/৬৩

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
02 সেপ্টেম্বর 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন shohan (4,274 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
02 সেপ্টেম্বর 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন shohan (4,274 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
02 সেপ্টেম্বর 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন shohan (4,274 পয়েন্ট)
1 উত্তর
02 সেপ্টেম্বর 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন shohan (4,274 পয়েন্ট)

167,655 টি প্রশ্ন

218,399 টি উত্তর

44,899 টি মন্তব্য

71,178 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...