আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না এ কথা কতটুকু সত্য ?

119 জন দেখেছেন
05 সেপ্টেম্বর 2013 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (6,504 পয়েন্ট)
06 সেপ্টেম্বর 2013 সম্পাদিত করেছেন আরিফুল

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
06 সেপ্টেম্বর 2013 উত্তর প্রদান করেছেন আরিফুল (6,504 পয়েন্ট)
আল্লাহ তায়ালার যে অর্থে عالم الغيب (নিজের থেকে নিজে সব কিছু জানেন) সে অর্থে কোন নবী, রাসূল, অলী, বুযুর্গعالم الغيب নন। তবে আল্লাহ তাআলা যাকে যতটুকু জানান, তিনি ততটুকুই জানেন। আর এভাবে যিনি জানেন তাকে পরিভাষায় عالم الغيب বলা হয় না। যখন নবী-রাসূলগণই عالم الغيب নন, তখন গণক, জ্যোতিষী, টিয়া পাখী ওয়ালা,জ্বীন-শয়তান বা কোন অলী-বুযুর্গ, কোন পীর ফকরি  হুজুর عالم الغيب হওয়ার বা গায়েব জানার প্রশ্নই আসে না।

জাহিলী যুগে যেভাবে গণক, জ্যোতিষী এবং এক শ্রেণীর পীর-বুযুর্গ গায়েব জানার দাবী করতো বর্তমানেও এক শ্রেণীর জ্যোতিষী, গণক, টিয়া পাখী ওয়ালা এবং এক শ্রেণীর ভন্ড আলেম যারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অতীত, বর্তমান,ভবিষ্যত সবকিছু জানে বলে দাবী করে, তারা মূলতঃ কুরআন এবং সহীহ হাদীস থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গেছে। কেননাعالم الغيب (অদৃশ্যের জ্ঞান) একমাত্র আল্লাহ তাআলায় জানেন। ইরশাদ হচ্ছেঃ

“ আপনি বলুন: আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিন: অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?” (আনআম, ৬: ৫০)

 “তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না।  স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন।

কোন পাতা ঝরে না; কিন্তূ তিনি তা জানেন।

কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না

এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তূ তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে”। (আনআম, ৬: ৫৯)

“তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেন: হয়ে যা, অত:পর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত।তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ”। (আনআম, ৬: ৭৩)

“আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তূ যা আল্লাহ চান।আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য” । (আরাফ, ৭: ১৮৮)

“তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে”। (তাওবা, ৯: ৯৪)

“আর তুমি(হে নবী) বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীঘ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে”। (তাওবা, ৯: ১০৫)

“তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম”। (ইউনুছ, ১০: ২০)

“আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্চিত আল্লাহ্ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব”। (হুদ, ১১: ৩১)

 

“এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির জানা ছিল না। আপনি ধৈর্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই”। (হুদ, ১১: ৪৯)

“আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে;অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তূ বে-খবর নন”। (হুদ, ১১: ৪৯)

“বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে”। (নামল, ২৭: ৬৫)

“এগুলো অদৃশ্যের খবর, আমি আপনার কাছে প্রেরন করি। আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা স্বীয় কাজ সাব্যস্ত করছিল এবং চক্রান্ত করছিল”। (ইউছুফ, ১২: ১০২)

“তিনি সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় অবগত, মহোত্তম, সর্বোচচ মর্যাদাবান”। (রা’দ, ১৩: ৯)

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান”। (নাহল ১৬: ৭৭)

“তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে”। (মুমিনুন, ২৩: ৯২)

“যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল। সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচিছল। যখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে,অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকলে তারা এই লাঞ্চনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না”। (সাবা, ৩৪: ১৪)

“আল্লাহ্ আসমান ও যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত”। (ফাতির,৩৫: ৩৮)

“বলুন, হে আল্লাহ্ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত”। (যুমার, ৩৯: ৪৬)

“আল্লাহ্ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয় জানেন, তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা দেখেন”। (হুজরাত, ৪৯: ১৮)

“...না তাদের কাছে অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আছে যে, তারাই তা লিপিবদ্ধ করে”? (তুর, ৫২: ৪১)

“তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে”? (নাজম, ৫৩: ৩৫)

“তিনিই আল্লাহ্ তা'আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা”। (হাশর, ৫৯: ২২)

“...না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অত:পর তারা তা লিপিবদ্ধ করে”। (কলম, ৬৮: ৪৭)

“তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না”। (জ্বিন, ৭২: ২৬)

 

“যেদিন আল্লাহ্ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অত:পর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে?

তাঁরা বলবেন: আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। (মায়েদা, ৫: ১০৯)

“যখন আল্লাহ্ বললেন: হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত”। (মায়েদা, ৫: ১১৬)

“সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অত:পর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?” (নামল, ২৭: ২০)


আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও গায়েব জানতেন না।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন :...... (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নবুওয়ত প্রাপ্ত হলেন। তখন হযরত খাদিজা (রা:) তাঁকে ওরাক্বাহ ইবনে নাওফাল এর কাছে নিয়ে যান।) তখন ওরাক্বাহ ইবনে নাওফাল বলেনঃ .....হায় আফসোস! যদি আমি তখন জীবিত থাকতাম যখন আপনার কওম আপনাকে (নিজ দেশ থেকে) বের করে দিবে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন : “তারা কি আমাকে (নিজ দেশ থেকে) বের দিবে? তিনি (ওরাক্বাহ) বললেনঃ হাঁ,.......।

এ হাদীসটি থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর রাসূল (সা:) গায়েব জানতেন না। কারণ যদি তিনি গায়েব জানতেন তাহলে ওরাক্বাহ কথার উত্তরে তিনি (তারা কি আমাকে নিজ দেশ থেকে বের দিবে?) এ কথা বলতেন না।


এমনিভাবে আল্লাহর রাসূল (সা:) কে যখন হুদায়বিয়ার এখানে আটকে দেওয়া হলো। তখন হযরত উসমান (রা:) আসতে দেরী হওয়ায় গুজব ছড়িয়ে পড়লো যে, উসমান (রা:) কে হত্যা করা হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সা:) সকল সাহাবীদের কাছ থেকে বায়আত নিলেন এই মর্মে যে, “যতক্ষণ পর্যন্ত উসমান হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ না করবো ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পলায়ন করবো না। এই হাদীস দ্বারাও বুঝা গেল আল্লাহর রাসূল (সা:) গায়েব জানতেন না কারণ উসমান (রা:) কে তারা হত্যা করেনি বরং বন্দী করেছিল।



তাওহীদের পূর্ণতা ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত একমাত্র আল্লাহর এবাদত ও সর্বপ্রকার তাগুত তথা শিরক মুক্ত না হয়। আল্লাহ বলেন “আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা এক আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত তথা শিরক থেকে দূরে থাক।” [সূরা নাহল : ৩৬ ]

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
22 জানুয়ারি 2014 "ঈমান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (1,099 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
21 জানুয়ারি 2014 "ঈমান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (1,099 পয়েন্ট)

163,566 টি প্রশ্ন

213,769 টি উত্তর

42,691 টি মন্তব্য

68,912 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...